আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জাতিসংঘের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জাতিসংঘের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালী জাতীর শ্রেষ্ট দিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জাতিসংঘ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পঞ্চমবারের মতো জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও আন্তর্জাতিক আবহে উদযাপন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, জর্ডান, লিথুনিয়া ও নিউজিল্যান্ড, জাতিসংঘ সচিবালয় ও ইউনেস্কোর অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

কভিড-১৯ এর বিধি-নিষেধ এর কারণে ইভেন্টটি ভার্চুয়ালভাবে অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনটি জাতিসংঘ ওয়েভ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সহ আয়োজক দেশগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিরা ছাড়াও অনুষ্ঠানটিতে আরো বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের বহুভাষিক সমন্বয়কারী ও জেনারেল অ্যাসেম্বলি ও কনফারেন্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতিসংঘের বৈশ্বিক যোগাযোগ বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল।

এছাড়া ইউনেস্কো মহাপরিচালকের ভিডিও বার্তা এবং নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়রের বার্তা উপস্থাপন করা হয় ভার্চুয়াল এই ইভেন্টটিতে।

স্প্যানিস ভাষাভাষি বন্ধু-দেশগুলোর পক্ষে এ সভায় বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত পর্তুগালের স্থায়ী প্রতিনিধি।

অনুষ্ঠানটিতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং সঞ্চালন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

স্বাগত বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি প্রাণ উৎসর্গকারী ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “ভাষা শহীদদের এই আত্মত্যাগের ফলেই ‘বাংলা’ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করেছে”। রাষ্ট্রদূত ফাতিমা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আর এই ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৭১ সালে আমরা অর্জন করেছি মহান স্বাধীনতা”

যে সকল প্রবাসী বাংলাদেশি বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা করার জন্য প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানান স্থায়ী প্রতিনিধি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সে সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনোস্কোর সঙ্গে সরকারিভাবে যোগাযোগ করে বিষয়টি এগিয়ে নিতে যে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় ভাষাসমূহের সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে যে প্রস্তাব রেখেছেন তা আবারো উল্লেখ করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জাতিসংঘের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজন

খবরটির বিস্তারিত পড়ুন

আপনি হয়ত পছন্দ করবেন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *