ইসলামিক বার্তা

যে কারনে কওমিসহ সকল মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করল সরকার

কওমিসহ দেশের সব আবাসিক ও অনাবাসিক মাদরাসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে কওমিসহ সকল মাদ্রাসা বন্ধ এই নির্দেশ জারি করে।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কওমি মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মধ্যে সরকার ২২ মে পর্যন্ত দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

কিন্তু সরকারি নির্দেশ সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কিন্তু আবাসিক ও অনাবাসিক মাদ্রাসা এখনও খোলা রয়েছে যা বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে অত্যন্ত স্বাস্থ্য ঝুকিপূর্ণ। যদিও বর্তমানে দেশে লকডাউন বলবৎ আছে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছিল।

এর মধ্যে একটি নির্দেশনা হচ্ছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে প্রাথমিক, মাদ্রাসা, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে।

তখন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে বিশেষ অনুরোধে গত বছরের আগস্ট মাসে কওমি মাদ্রাসাগুলো চালুর অনুমতি দিয়েছিল সরকার।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের স্কুল-কলেজ আগামী ২৩ মে খোলার কথা। আর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা রয়েছে ২৪ মে।

মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা শাখার অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব আবাসিক ও অনাবাসিক মাদরাসা বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হল। এ নির্দেশ পালনে কোনরূপ শৈথল্য প্রদর্শন করা যাবে না।

হেফাজতের আন্দোলন ঠেকাতে কওমিসহ সকল মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করল সরকার এই  ধরণের পদক্ষেপ  নিয়ে কেউ মন্তব্য করেনি।

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আবারো রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুও অনেক বেড়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৬ জন।

এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ হাজার ৩৮৪ জনে।

আর সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ২১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৫২ জনে।

করোনাভাইরাস নিয়ে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার (৫ এপ্রিল) দেশে আরও ৭ হাজার ৭৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এ ছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান আরও ৫২ জন। এই জন্য কওমিসহ সকল মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করল সরকার।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৯৬৯ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৩ জন।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী,

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ কোটি ২৪ লাখ ৪ হাজার ৪২৪ জন ।

মৃত্যু হয়েছে ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৫০৩ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে।

তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার ৫৬৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৭ জনের।

আরও পছন্দ করতে পারেন

মসজিদে সাহরি ও ইফতার না করার নির্দেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

কম্বাইন হারভেস্টার: ১৪ লক্ষ টাকা সরকারি ভর্তুকি কিভাবে পাবেন!