চাকুরি ও ব্যবসা

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য ২০০ কোটি টাকার পুনর্বাসন ঋণ

কোভিড-১৯ এর দ্রুত বিস্তার ও সংক্রমণ প্রতিরােধে বিশ্বব্যাপি নজিরবিহীন লকডাউন ও যােগাযােগ স্থবিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক “কোভিড-১৯ এর কারণে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য “পি কে বি”এর ২০০ কোটি টাকার পুনর্বাসন ঋণ স্বল্প সুদে  বিতরণের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে তহবিল গঠন করা হয়েছে।

যে সকল বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারণে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী কর্মী হয়ে দেশে ফেরত এসেছেন সে সকল কর্মী। অথবা বিদেশে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁর পরিবারের ১ (এক) জন উপযুক্ত সদস্যকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান যা “পুনর্বাসন ঋণ” হিসাবে বিবেচিত হবে।

শিরােনামঃ এই নীতিমালা “কোভিড-১৯ এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী কর্মী পুনর্বাসন ঋণ নীতিমালা, ২০২০” নামে অভিহিত হবে।

উদ্দেশ্যঃ বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী বাংলাদেশি কর্মী/প্রবাসে মৃত কর্মীর পরিবারের ১ (এক) জন উপযুক্ত সদস্যকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে স্বল্প সুদে “পুনর্বাসন ঋণ” প্রদান।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য ২০০ কোটি টাকার পুনর্বাসন ঋণ

ঋণ প্রাপ্তির যােগ্যতাঃ

  • করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী কর্মীদের বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;
  • আবেদনকারীকে ব্যাংকের শাখার অধিক্ষেত্র (Command Area/Jurisdiction) এর স্থায়ী বাসিন্দা হতেহবে;
  • বয়স ন্যূনতম ১৮ বৎসর হতে হবে;. আবেদনকারীর পাসপাের্ট (পাসপাের্টের বহির্গমণ ও আগমণ সীলযুক্ত পাতাসহ) এর সত্যায়িত ফটোকপি, বিএমইটি’র
  • স্মার্ট কার্ড চাকরিরত দেশের আইডি কার্ড এর সত্যায়িত ফটোকপি/ বৈধ পথে বিদেশ গমণের প্রমাণপত্র/বিদেশে চাকুরির চুক্তিপত্র বৈধ পথে রেমিটেন্স প্রেরণের প্রমাণপত্র এবং ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী কর্মী মর্মে সংশ্লিষ্ট জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস এর প্রত্যয়নপত্র প্রমাণ হিসেবে দাখিল করতে হবে;
  • অন্য কোন সংস্থা/ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ঋণ পাওয়ার যােগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। ঋণ আবেদনকারীকে নন-জুডিশিয়াল স্টাম্পে এতদসংক্রান্ত হলফনামা দাখিল করতে হবে;
  • উম্মাদ, দেউলিয়া, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি, রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামী ঋণের জন্য বিবেচিত হবেন না;
  • প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক হতে ইতঃপূর্বে গৃহীত ঋণ নিয়মিত হতে হবে; কোভিড-১৯ এর কারণে ১ মার্চ, ২০২০ তারিখ থেকে দেশে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মী ঋণের জন্য বিবেচিত হবেন।

 ঋণের প্রকৃতিঃ

  •     ক. প্রকল্প ঋণ 
  •     খ. চলতি পুঁজি (ক্যাশ ক্রেডিট) 
ঋণের খাতসমূহঃ দেশের বিদ্যমান আইন/ সময় সময় সরকার কর্তৃক ঘােষিত নির্দেশনা মােতাবেক নিষিদ্ধ নয়। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক উৎপাদনশীল/বাণিজ্যিক/সেবামুলক যে কোন অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ঋণের খাত হিসাবে বিবেচিত হবে। নিয়ে খাতসমূহ উল্লেখ করা হলােঃ

ক) কৃষি খাতঃ 

মৎস্য সম্পদঃ ও মৎস্য চাষ : কার্প জাতীয়-রুই, কাতলা, মৃগেল ইত্যাদি; ও মৎস্য চাষ : ক্যাট ফিস-পাংগাস, বােয়াল, পাবদা, টেংরা, মাগুর, শিং ইত্যাদি; ও মৎস্য চাষ ; তেলাপিয়া, ভেটকি, চিতল, কৈ, থাই কৈ, শােল, গজার, পুঁটি ইত্যাদি; ও মৎস্য চাষ : চিংড়ি;

প্রাণী সম্পদঃ

  • পােস্ট্রি ফার্মঃ * মুরগী (লেয়ার, ব্রয়লার, কক) খামার;
  • হাঁস/রাজহাঁস খামার; ও পােস্ট্রি ফার্ম (অন্যান্য)
  • গবাদিপশু মােটাতাজাকরণ । পালন প্রকল্পঃ গরু/ছাগল/ ভেড়া/ মহিষ মােটাতাজাকরণ/ পালন।
  • দুগ্ধ খামারঃ গরু/ছাগল ভেড়া/ মহিষের দুগ্ধ খামার।

খ, অকৃষি খাতঃ 

কুটির শিল্প/ক্ষুদ্র শিল্প ।

  • ব্লক-বাটিক প্রিন্টিং; ও গ্রামীণ স্যানিটারী সামগ্রী তৈরি;
  • তাঁত বুনন শিল্প; নকশী কাঁথা তৈরি;
  • কাঠের/স্টীলের আসবাবপত্র তৈরি; • ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প (অন্যান্য)।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য ২০০ কোটি টাকার পুনর্বাসন ঋণ

গ.বাণিজ্যিক খাতঃ

 মুদি/মনােহরী; ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোর;

  • কাপড়ের ব্যবসা/তৈরি পােষাকের ব্যবসা; প্রাণী খাদ্য/মৎস্য খাদ্য ব্যবসা; ধান/চাল/অন্যান্য কৃষিপণ্য ব্যবসা; ধান, গম, মসলা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য ভাঙ্গার মেশিন ব্যবসা;
  • সার/বীজ/কীটনাশক  ; পার্টসের ;  ইলেকট্রিক  ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ব্যবসা; ও ঔষধ ব্যবসা; # জুতার ব্যবসা;
  • ক্রোকারিজ সামগ্রীর ব্যবসা; ও হার্ডওয়্যার ব্যবসা;
  • আসবাবপত্রের ব্যবসা; কম্পিউটার দোকান; লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং/গাড়ী মেরামত ওয়ার্কসপ;
  • সিএনজি, অটোরিক্সা ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব যানবাহন ক্রয়; * কৃষি যন্ত্রপাতি (পাওয়ার ট্রিলার, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র, মাটি কাটার মেশিন ইত্যাদি) ব্যবসা;
  • বিউটি পার্লার; ও অন্যান্য বাণিজ্যিক খাত।

*  গ্রুপ ঋণঃ ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী কর্মীগণ গ্রুপ সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রুপ ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। 

ঋণ সীমাঃ সর্বোচ্চ ৫.০০ (পাঁচ) লক্ষ টাকা।

 ঋণের মেয়াদঃ প্রকল্প এবং ব্যবসার প্রকৃতি/ধরণ অনুযায়ী (সর্বোচ্চ ৫ বছর)।

 সহজামানত/জামানত/গ্যারান্টিঃ

  •  সর্বোচ্চ ২.০০ (দুই) লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহজামানতবিহীন;
  •  ২.০০ (দুই) লক্ষ টাকার উর্ধ্বে ঋণ মঞ্জুরির ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুযায়ী গ্রহণযােগ্য ১.৫ গুণ সমপরিমাণ সহজামানত
  • নিতে হবে;
  •  যে কোন পরিমাণ ঋণের ক্ষেত্রে প্রকল্প, ব্যবসার মালামাল/অস্থাবর ও অন্যান্য সম্পদ প্রাথমিক জামানত হিসেবে হাইপােথিকেশন দলিলমূলে ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে
  • ঋণ পরিশােধে সক্ষম ন্যূনতম ১ (এক) জনের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি নিতে হবে।

 আবেদনকারীর পিতা/মাতা/ স্বামী স্ত্রী/ ভাই বােন। নিকটতম আত্নীয়-স্বজন আর্থিকভাবে সচ্ছল সমাজের গণ্যমান্য  ঋণ পরিশােধে সক্ষম ব্যক্তি গ্যারান্টর হতে পারবেন। এছাড়া গ্যারান্টরকে শাখার অধিক্ষেত্রের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

একজন গ্যারান্টর সর্বোচ্চ একজন ঋণগ্রহীতার গ্যারান্টর হতে পারবেন;

প্রতিটি ঋণের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার ব্যক্তিগত গ্যারান্টি নিতে হবে। ঋণগ্রহীতা ও যে কোন একজন গ্যারান্টার, উভয়ের নিকট হতে ৩ (তিন) টি করে মােট ৬ (ছয়) টি স্বাক্ষরিত চেকের পাতা নিতে হবে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য ২০০ কোটি টাকার পুনর্বাসন ঋণ

সুদের হারঃ  ৪% সরল সুদ। তবে মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে কিস্তি খেলাপি এবং ক্যাশ ক্রেডিট ঋণের ক্ষেত্রে মঞ্জুরিপত্রের শর্ত  মােতাবেক যথাসময়ে সমন্বয়ে ব্যর্থতায় ২% দণ্ড সুদ আরােপযােগ্য।   

চলতি হিসাবঃ ঋণ বিতরণের পূর্বে ন্যূনতম ১০০০.০০ (এক হাজার) টাকা জমা করে চলতি হিসাব খুলতে হবে।  ফরমের মূল্যঃ ২০০/- (দুইশত) টাকা।

প্রসেসিং ফি ও সার্ভিস চার্জঃ ঋণ গ্রহীতাকে ঋণ গ্রহণের সময় ১% প্রসেসিং ফি এবং ২% সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে।

তালিকা বহির্ভূত খাতে অর্থায়নঃ খাতসমূহ যা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি তা পর্ষদের অনুমােদনক্রমে অর্থায়ন করা যাবে। 

চার্জ ডকুমেন্ট ব্যাংকের ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে।  মঞ্জুরি ক্ষমতা ব্যাংকের প্রচলিত ঋণ মঞ্জুরি ক্ষমতার আওতায় ঋণ মঞ্জুর করা যাবে। 

ঋণ আদায়ঃ মঞ্জুরিপত্রের শর্ত মােতাবেক ঋণ গ্রহীতাকে ঋণের কিস্তি পরিশােধ করতে হবে। যথাসময়ে ঋণ

পরিশােধের ব্যর্থতায় দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যাংক মামলা দায়ের করতে পারবে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য ঋণ আবেদনের প্রয়ােজনীয় কাগজপত্রঃ

ক. আবেদনকারীর আবেদনসহ পারিবারিক তথ্যসম্বলিত জীবন বৃত্তান্ত (নির্ধারিত ফরমেটে);

খ. আবেদনকারীর পাসপাের্ট (পাসপাের্টের বহির্গমন ও আগমন সীলযুক্ত পাতাসহ) এর সত্যায়িত ফটোকপি, বিএমইটি’রস্মার্ট কার্ড চাকরিরত দেশের আইডি কার্ড এর সত্যায়িত ফটোকপি/ বৈধ পথে বিদেশ গমণের প্রমাণপত্র/বিদেশে চাকুরির চুক্তিপত্র/ বৈধ পথে রেমিটেন্স প্রেরণের প্রমাণপত্র । ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী কর্মী মর্মে সংশ্লিষ্ট জেলাকর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস এর প্রত্যয়নপত্র প্রমাণ হিসেবে দাখিল করতে হবে;

গ. আবেদনকারীর সদ্য তােলা ০৩ (তিন) কপি পাসপাের্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি;

ঘ. গ্যারান্টরের সদ্য তােলা ০২ (দুই) কপি পাসপাের্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি;

ঙ হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত ফটোকপি (প্রযােজ্য ক্ষেত্রে);

চ, প্রকল্পের ঠিকানাসহ বিস্তারিত বিবরণ (এক বছবের আয়-ব্যয় বিবরণী প্রযােজ্য ক্ষেত্রে);

ছ, দোকান/গােডাউন ভাড়ার ক্ষেত্রে Letter of Disclaimerএবং নিজস্ব হলে মালিকানার প্রমাণপত্র নিতে

জ, প্রশিক্ষণ/অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট এর সত্যায়িত ফটোকপি (প্রযােজ্য ক্ষেত্রে);

ঝ. ব্যক্তিগত/প্রকল্পের নামে কোন সংস্থা/এনজিও/ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে গৃহীত ঋণের ঘােষণাপত্র; এ, অন্য কোন কোন সংস্থা/ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ গ্রহণ করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ হিসাব বিবরণীসহ ঋণ খেলাপী নয় মর্মে ঋণ গ্রহীতাকে নন-জুডিশিয়াল স্টাম্পে হলফনামা দাখিল করতে হবে;

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য নীতিমালা কার্যকর ও সংশােধন ক্ষমতাঃ

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী কর্মীদের গৃহীত ঋণের নীতিমালা সংশােধন, সংযােজন, বিয়ােজন, পরিমার্জন, পরিবর্ধন উভয়পক্ষের সম্মতি সাপেক্ষে সাধিত হবে।

এই ধরনের তথ্য নিয়মিত পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজ টি লাইক  ও ফলো করে রাখুন;

আপনার জন্য আরও কিছু তথ্য: 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *