জাতীয় বার্তা

করোনা ভাইরাসের কারণে ৭০ ভাগ চাকরিজীবীর আয় কমে গেছে

করোনা ভাইরাসের কারণে ৭০ ভাগ চাকরিজীবীর আয় কমে গেছে বলে গবেষনায় জানা গেছে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত বছর ২০২০ সালে ৭০ শতাংশ চাকরিজীবীর আয় কমে গেছে। আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলেও ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আর কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরবে না।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের এক যৌথ জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ‘মহামারী এবং বাংলাদেশের যুব জনগোষ্ঠী : চারটি নির্বাচিত জেলার জরিপের ফলাফল’ শিরোনামের একটি ওয়েবিনার জরিপে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

জরিপে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের নভেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের নভেম্বরে জরিপকৃত চারটি জেলায় মজুরি বা বেতনভুক কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশের আয় কমেছে, ২৮ শতাংশের আয় অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ২ শতাংশের আয় বেড়েছে।

স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিতদের মধ্যে এই সময়কালে লাভ কমেছে ৮২ শতাংশের, অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫ শতাংশের এবং বেড়েছে ৩ শতাংশের।

স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিত এই চারটি জেলায় করোনার সময়ে ব্যবসা বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হয়েছে ৩১ শতাংশের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশার সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।

জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক এবং সানেমের রিসার্চ ইকোনমিস্ট মাহতাব উদ্দিন।

জরিপের ফলাফল উপস্থাপনের সময় মাহতাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর করোনা মহামারীর প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পেতে সানেম ও অ্যাকশনএইড চারটি জেলাÑ বরগুনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও কুড়িগ্রামের ১৫৪১টি খানার ওপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরের ১৩ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করে।

এই জরিপে তরুণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী ইত্যাদির ওপর করোনা মহামারীর প্রভাব নিরূপণের চেষ্টা করা হয়।

একই সাথে এই জরিপে তরুণদের মধ্যে নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রবণতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সচেতনতার মাত্রাও বুঝতে চাওয়া হয়।

জরিপে জেন্ডারবিষয়ক বিভিন্ন ইস্যু যেমন নারীর প্রতি সহিংসতা, নারীর কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়ন এবং বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তিতে নারীর অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়েছে। জরিপে ইনুমেরটর হিসেবে কাজ করেছেন চারটি জেলার চারটি যুব সংগঠনের সদস্যরা। জরিপে ১৫-৩৫ বছর বয়সীদের যুব জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

করোনার সময়ে অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কুড়িগ্রামে ৬২ শতাংশ, সাতক্ষীরাতে ৫৬ শতাংশ, রাজশাহীতে ৩৯ শতাংশ এবং বরগুনায় ৪৬ শতাংশ।

গড়ে এই চারটি জেলার ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পায়নি। এই চারটি জেলার ৫০ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পায়নি, অপর দিকে ৫৬ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পায়নি।

করোনাকালে এই চারটি জেলার ৫২ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না, অপর দিকে ৬৫ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না। গড়ে এই চারটি জেলার ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না।

জরিপে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হলে নিয়মিত পড়াশুনায় ফিরবে না অথবা এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা আছে এমন মত দিয়েছে এই চারটি জেলার ৩.৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী।

ছেলে শিক্ষার্থীর মধ্যে এই হার ৩.৫২ শতাংশ এবং মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪.০৩ শতাংশ। গ্রামে এই হার ৪.৪১ শতাংশ আর শহরে ১.৬৫ শতাংশ।

করোনা ভাইরাসের কারণে ৭০ ভাগ চাকরিজীবীর আয় কমে গেছে: বিস্তারিত পড়ুন

আপনি হয়তো পছন্দ করবেন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *