চাকুরি ও ব্যবসা

স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ

গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ব্যাংকের গ্রাহক এর স্বাক্ষর জাল করে সাড়ে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

গ্রাহকের ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা জালিয়াতি করার ঘটনাটি ঘটেছে ২০১৮ সালে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রতিবেদনের তদন্তে বিষয়টি প্রমাণ পাওয়া যায়।

ব্যাংকের নাম প্রকাশ না করলেও প্রতিবেদনে ওই গ্রাহকের নাম ফেরদৌসী জামান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এন্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বিভাগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশিত।

গ্রাহক ২০১৬ সালে ৬ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার ২৯৫ টাকা জমা দিয়ে ওই ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট চালু করেন।

তিনি ২০১৮ সালের শেষের দিকে তার ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে ব্যাংক থেকে জানানো হয় তার ওই অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই।

কিন্তু সেই ব্যাংকেই গ্রাহককে সর্বশেষ যে হিসাব বিবরণী নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে তার অ্যাকাউন্টে তখন ৫ কোটি ৫৬ লাখ ১৫ হাজার ৮৯৩ টাকা থাকার কথা।

জালিয়াতির শিকার হওয়া একাউন্ট হোল্ডার এর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায় স্বীকার করে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জালিয়াতি শিকার হওয়া সেই গ্রাহককে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তার টাকা ফেরত না পাওয়ার কারণে ওই গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন নম্বর ফোন করে অভিযোগ পেশ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

প্রথমে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে অস্বীকার জানালেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে আসে সবকিছু জেনেও ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা না দেওয়ার জন্য মিথ্যাচার করে আসছিল।

গ্রাহকের একাউন্ট অপেনিং ফর্ম ব্যাংকের হিসাব বিবরণী বিস্তারিত কাগজপত্রাদি পর্যালোচনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কর্মকর্তারা দেখতে পায় ব্যাংকের নিজস্ব তদন্ত ও জালিয়াতির ঘটনায় তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার সরওয়ার কর্তৃক করা হয়েছিল।

যেভাবে জালিয়াতি পরিচালনা করা হয়:

অভিযুক্ত ব্যাংকের কর্মকর্তারা সরোয়ার যে গ্রাহকের একাউন্ট থেকে টাকা তোলার জন্য পায়তারা করছিল প্রথমে একাউন্ট ইনফর্মেশন থেকে ফোন নম্বরটি সরিয়ে একটি নকল ফোন নম্বর সংযুক্ত করে দেন।

যাতে গ্রাহকের একাউন্ট থেকে টাকা সরানোর পর বা চেক বই তোলার পর কোন প্রকার মেসেজ তার মোবাইলে না যায়।

এরপর ওই কর্মকর্তা জালিয়াতির শিকার সেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে অধীনে একটি চেক বই উত্তোলন করেন।

এবং একাউন্ট ফ্রম এ তথ্য থেকে গ্রাহকের স্বাক্ষর নকল করে টাকা উত্তোলন করে সেই ব্যাংক থেকে লাপাত্তা হয়ে যায়।

ওই দুষ্কৃতিকারী ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে সেই ব্যাংকের আরও ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতা রয়েছে বলে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে উঠে আসে।

পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী জালিয়াতির শিকার হওয়া সেই গ্রাহকের ৫ কোটি ১৬ লাখ ৯ হাজার ৫৫৯ টাকা ফেরত দেয় অভিযুক্ত ব্যাংক।

আপনি হয়তো পছন্দ করবেন-

দেশের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার সময়ে সঠিক তথ্য পেতে আমাদের

ফেসবুক পেইজ টি লাইক এবং ফলো করে রাখুন এবং ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। 

আপনার যেকোনো সূজনশীল লেখা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *