জাতীয় বার্তা

১৩০০০ ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছেন!

১৩০০০ ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছেন! মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্য স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সূর্যসন্তান মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের সর্বস্ব ত্যাগ স্বীকার করে যুদ্ধ পরিচালনা করায় বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা প্রদান করার ব্যবস্থা রয়েছে।

এবার যাচাই-বাছাই করে বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়া ১৩০০০ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ও অন্যান্য ভাতা পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১ লাখ ৯৩ হাজার। কিন্তু গত বৎসর মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্যাদি সফট্ওয়ারে সংযুক্ত করার পর পরেই তা ২১০০০ কমে যায়।

২১০০০ বীরমুক্তিযোদ্ধা যারা বিভিন্ন সমস্যার কারণে ছাত্রনেতাদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি তাদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমান সহ গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এর মধ্যে চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও ১৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধার তথ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানা যায় এর কারণ হতে পারে একজন একাধিক নামে মুক্তিযোদ্ধা থাকা অথবা জাল সনদ এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করা।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য অন্তর্ভুক্তি করার সময় ও সুযোগ দেওয়ার পরও যেহেতু ১৩০০০ বীরমুক্তিযোদ্ধা এখনো তাদের নাম সফট্ওয়ারে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি তাই ওই ১৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধা কে আর খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

১৩০০০ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা দিয়ে উত্তোলনের প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন ঐ সকল ব্যক্তিরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রের টাকা নিয়ে গেছে যা প্রায় এক হাজার কোটি টাকার সমান।

২০১৯ সালের পূর্বে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কে মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো যা ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

দুই ঈদে ২০ হাজার টাকা এবং ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবসের ভাতা আর ২ হাজার টাকা নববর্ষের ভাতা পায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বছরে একজন মুক্তির মুক্তিযোদ্ধা আর সব মিলিয়ে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ভাতা উত্তোলন করতে পারেন।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এত দিন মন্ত্রণালয় ইউএনওদের কাছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার টাকা পাঠাত। ইউএনও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসাবে সেই টাকা জমা দিতেন।

ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) সফটওয়্যারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার পর গত বছরের অক্টোবর থেকে সরাসরি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসাবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভাতার টাকা যাচ্ছে।

কারও সনদ জাল প্রমাণিত হলে বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে ত্রুটি থাকলে তাঁদের নাম এমআইএসে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এ ছাড়া ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর যাঁদের বয়স ন্যূনতম ১২ বছর ৬ মাসের কম ছিল, তাঁদের নাম এমআইএসে যুক্ত হয়নি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা নেওয়া ১৩ হাজার ব্যক্তিকে চার মাসেও খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির গতকাল রোববার বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন,

‘আমরা মনে করি, এ জন্য বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত। শুধু মন্ত্রণালয়কে এ জন্য দোষ না দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যাঁরা এসব সনদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন, জামুকার যাঁরা সুপারিশ করেছেন, মন্ত্রী বা সচিবদের মধ্যে যাঁরা ওই ব্যক্তিদের সনদ পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন, তাঁদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

একজন মুক্তিযোদ্ধা বছরে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা পান, তাহলে ওই ১৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধা কত টাকা নিয়েছেন, তার হিসাব জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে মন্ত্রণালয়কে।’

এদিকে গত ৩ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত তালিকার খসড়া প্রকাশসংক্রান্ত একটি চিঠিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, মন্ত্রণালয় স্বীকৃত ৩৩ ধরনের প্রমাণকের মধ্যে যেকোনো একটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম থাকলে এমআইএসে নাম যুক্ত করা হয়েছে।

মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সুবিধাভোগীদের তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে এমআইএসে। যদি কোনো মুক্তিযোদ্ধার নাম বা পরিচিতি বা মুক্তিযোদ্ধাসংক্রান্ত কোনো প্রমাণ বা ব্যাংক হিসাবে তথ্যগত কোনো ভুল থাকে, তবে তা ১৫ মার্চের মধ্যে সংশোধন করে নিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকাশিত তালিকার মধ্যে কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ও পিতার নামের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণকে নাম ও পিতার নামে মিল না থাকলে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।

আপনি আরও পছন্দ করবেন-

সমাজের চলমান কোনো অসঙ্গতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতি নিয়ে আপনার মতামত, সৃজনশীল লেখনি সাহসী বার্তা ডটকমের প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে চাই আমাদের ফেসবুক পেইজ টি লাইক এবং ফলো করে রাখুন এবং ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *